বগুড়ায় বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ জন গ্রেফতার
বগুড়ায় একসঙ্গে মদপানের পর এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত।
বগুড়া মহানগরীতে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর এক তরুণীকে (২৪) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে। গত রোববার রাতে মহানগরীর ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী সোমবার সকালে বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়:
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—বগুড়া মহানগরীর ফুলবাড়ি দক্ষিণ হাজীপাড়ার রায়হানের ছেলে মো. কাওসার (১৯), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার মৃত হাতেম আলী পাইকারের ছেলে বাঁধন পাইকার (১৯) ও উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে মো. রকি (১৯)।
ঘটনার বিবরণ ও মামলার সূত্র:
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। গত রোববার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী মহানগরীর পুলিশ প্লাজার একটি দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই কাওসার, বাঁধন, সাদিকসহ অন্য সহযোগীরা অবস্থান করছিলেন। তারা সবাই মিলে মদপানের পরিকল্পনা করেন এবং একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করেন।
পরবর্তীতে রাত সোয়া ১০টার দিকে তারা ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশান ঘাট রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে যান। সেখানে রনি নামের আরেক যুবক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। মদপানের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে অবরুদ্ধ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ:
ধর্ষণ শেষে অভিযুক্ত বাঁধন ভুক্তভোগীকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় শিববাটির বিগবাজার এলাকায় পৌঁছালে ওই তরুণী চিৎকার করে পথচারীদের সহযোগিতা চান। এ সময় বেগতিক দেখে বাঁধন পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তরুণীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


