অনন্য স্বাদের মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু এবার যাচ্ছে বিদেশে, ১২ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা!

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলবাড়িয়ার সুমিষ্ট ও রসালো লিচুর কদর এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে। এবার এই অঞ্চলে ১২ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা।

May 19, 2026 - 18:06
 0  3
অনন্য স্বাদের মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু এবার যাচ্ছে বিদেশে, ১২ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা!
×

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত সুমিষ্ট ও রসালো ‘মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু’ এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে এই বিশেষ জাতের লিচু বেচাকেনা। রসে টইটম্বুর, অতুলনীয় সুগন্ধ ও অনন্য স্বাদের কারণে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ক্রেতা ও পাইকাররা ভিড় করছেন এই জনপদে।

​স্থানীয় কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুকে ঘিরে প্রায় ১২ কোটি টাকার এক বিশাল বাণিজ্যের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস:

অন্যান্য সাধারণ জাতের লিচুর তুলনায় মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর রয়েছে কিছু জাদুকরী বৈশিষ্ট্য। এই লিচুগুলো আকারে বেশ বড়, দেখতে আকর্ষণীয় গোলাপি রঙের এবং এটি মূলত একটি আগাম জাতের ফল। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর বিচি বা আঁটি অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এতে শাঁসের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি, যা ক্রেতাদের কাছে একে তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছে।

​স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, ব্রিটিশ শাসনামলে জনৈক এক ব্যক্তি চীন থেকে কয়েকটি বিশেষ লিচুর চারা এনে এই মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে রোপণ করেছিলেন। সেখান থেকেই মূলত এই অনন্য জাতের লিচুর আবাদ শুরু। পরবর্তীতে এর সুমিষ্ট স্বাদের কারণে এটি দ্রুত কুমারপুর, নারান্দী ও হোসেন্দীসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই লিচু চাষ করে ভাগ্য বদলেছে হাজারো মানুষের।

বাজার দর ও চাষিদের কর্মযজ্ঞ:

সরেজমিনে গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, আবাদি জমি থেকে শুরু করে বসতবাড়ির আঙিনাজুড়ে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় পাকা লিচু। চাষিরা জানান, বর্তমানে আকার ও মানভেদে মাঝারি সাইজের প্রতি ১০০টি লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং বড় আকারের ১০০টি লিচু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন বাম্পার হয়েছে। তবে বাদুড় ও পাখির হাত থেকে পাকা ফল রক্ষা করতে চাষি ও শ্রমিকরা রাত জেগে বৈদ্যুতিক বাতি ও টিনের তৈরি বিশেষ শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে বাগান পাহারা দিচ্ছেন।

​মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের বড় লিচু ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর বলেন, "এ বছর সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় লিচুর ফলন চমৎকার হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি নিজে এবার ৫০০টি লিচুগাছ অগ্রিম কিনেছি এবং আশা করছি প্রায় এক কোটি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব।"