২০ লাখ টাকা আত্মসাত: হজ এজেন্সির পরিচালক ঢাকায় গ্রেফতার
ওমরাহ হজে পাঠানোর নামে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘ব্রাদার্স ট্রাভেলস’-এর পরিচালক আবু তালেব কাজলকে ঢাকার বারিধারা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। আদালতে স্বীকারোক্তি।
ওমরাহ হজে পাঠানোর নামে ১৫ জন ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘ব্রাদার্স ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ নামে একটি হজ এজেন্সির পরিচালক আবু তালেব কাজলকে (৪০) ঢাকার বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে তিনি বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বারিধারায় গাড়ি কেনার সময় গ্রেফতার:
পিবিআই বগুড়া কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার (১৮ মে) দুপুরে পিবিআই-এর একটি বিশেষ দল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানাধীন প্রগতি সরণির জে-ব্লক এলাকার ‘বারিধারা ওয়ালি কার প্যালেস’ নামক একটি শোরুম থেকে কাজলকে গ্রেফতার করে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ওমরাহ প্রত্যাশীদের টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপনে থাকা কাজল গ্রেফতারের মুহূর্তে সেখানে একটি দামি প্রাইভেট কার কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পিবিআই বগুড়ার ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) জাহিদ হাসান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেফতার ও সোপর্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত আবু তালেব কাজল বগুড়ার কাহালু উপজেলার ভাগদুবড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় অফিস খুলে এই প্রতারণা চক্র চালাতেন।
ভুয়া ভিসা-টিকিটে ওমরাহযাত্রীদের জালিয়াতি:
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের শুরুতে ওমরাহ হজে পাঠানোর কথা বলে ১৫ জন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন কাজল। এরপর ভুক্তভোগীদের হাতে ভুয়া ভিসা ও জালিয়াতি করা বিমানের টিকিট তুলে দেওয়া হয়। যথাসময়ে বিমানবন্দরে গিয়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন যে তাদের টিকিট ও ভিসা দুটোই ভুয়া, যার ফলে তারা কেউই ওমরাহ হজে যেতে পারেননি।
এই ঘটনায় প্রতারিত দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু বাদী হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি কাজলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অফিস গুটিয়ে কাজল ঢাকায় পালিয়ে আসেন এবং ভিন্ন নামে পল্টন এলাকায় নতুন করে হজ এজেন্সি খুলে আবারও জালিয়াতি শুরু করেন।
৩ কোটি টাকা আত্মসাতের আরও অভিযোগ:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-এর এসআই আকতারুল ইসলাম জানান, শুধু ওমরাহ হজের টাকা আত্মসাতই নয়, কাজলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে চাকরি দেওয়ার নামে অর্ধশতাধিক বেকার যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
আদালতে হাজির করা হলে কাজল নিজের অপরাধ সম্পূর্ণ স্বীকার করেছেন। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।


