কৌশলে স্থানীয় নির্বাচনে লড়বে নিষিদ্ধ আ.লীগ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে ফেরার গোপন কৌশল চূড়ান্ত করছে। জেনে নিন বিস্তারিত।

May 20, 2026 - 10:11
 0  3
কৌশলে স্থানীয় নির্বাচনে লড়বে নিষিদ্ধ আ.লীগ
×

বিগত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রশাসনিক আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুনরায় রাজনীতির মাঠে ফেরার গোপন কৌশল খুঁজছে। সুযোগ পেলে দলটি দেশের আসন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। দলীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলটির পদধারী নেতাদের প্রার্থী করার প্রাথমিক প্রস্তুতি থাকলেও কৌশলগত বাধা এড়াতে ভিন্ন পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে তারা।

​সেক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিকভাবে স্বচ্ছ, সজ্জন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রার্থী করা এবং পেছন থেকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার বিকল্প ছক কষছে দলটি। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চাঞ্চল্যকর আভাসই পাওয়া গেছে।

শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত ও শীর্ষ নেতাদের যোগাযোগ:

দলীয় সূত্রের জোরালো দাবি, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজে ভারতে অবস্থান করেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

​বর্তমানে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রায় সব নেতা আত্মগোপনে, কারাগারে কিংবা বিদেশে (বিশেষ করে ভারতে) থাকলেও, বিগত কয়েক দিনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ভার্চুয়াল যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলে প্রার্থীরা যার যার মতো করে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেবেন এবং পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে বিজয়ীদের আবার প্রকাশ্যে দলে ভেড়ানো হবে।

মাঠের রাজনীতি ও ঝটিকা কর্মসূচি:

রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, নানা সামাজিক কর্মসূচি, পেশাজীবী সংগঠন ও স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ছোট তৎপরতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

​স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: গত ১৭ মে শেখ হাসিনার ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর আসাদগেট ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চোখ এড়িয়ে ঝটিকা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

​চট্টগ্রামের ঘটনা: গত ১৪ মে চট্টগ্রামে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নগরীর প্রধান সড়কে মিছিল বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

​সচেতন নাগরিক সমাজ: সম্প্রতি ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে, যেখানে দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, বর্তমান সরকার হয়তো আওয়ামী লীগের এসব কর্মকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে কিছুটা এড়িয়ে যাচ্ছে, আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে তারা।

​দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদক কালবেলাকে জানান, আওয়ামী লীগ দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলেও স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মীরা মাঠে ফিরবে। দল সব ধরনের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং বাধা আসলে প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নিজেদের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে লড়বেন।

এলাকাভিত্তিক গোপন প্রস্তুতি:

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে গোপনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

​বরিশাল: এখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীরা হাইকমান্ডের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি সাদিক আবদুল্লাহর চাচা খোকন সেরনিয়াবাত আত্মগোপনে থেকেই ফেসবুকে সক্রিয় হচ্ছেন। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ছেলে সাজিদ হোসেন রাফসানও আলোচনায় আছেন।

​সিলেট: সিলেট সিটি নির্বাচনে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ আসাদ উদ্দিন আহমদ, আজাদুর রহমান আজাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলাতেও সাবেক চেয়ারম্যানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

​অন্যান্য অঞ্চল: নিরাপত্তার কারণে ময়মনসিংহ, খুলনা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় নেতারাও গোপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

​আইনজীবী সংগঠনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলকে বাধা দেওয়ার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই মূলত এই 'স্বতন্ত্র ও সজ্জন ব্যক্তি' কার্ডের নতুন নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা।