ছয় বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি: পার্থ
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটীয় রূপকে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করলেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
জুলাই অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটীয় রূপকের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ত্যাগের বন্টন ও ক্রিকেটীয় রূপক
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “শুনেন, আপনারা ছয় বলে ১২ রান করেছেন। কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। সুতরাং এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয় যে জুলাইয়ে আমাদের কোনো অবদানই নেই। আবু সাঈদ যেদিন শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছে। অবদান কারও কম নয়।” তিনি জুলাইয়ের স্পিরিটকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব জাহির করার প্রবণতার প্রতিবাদ জানান।
গণভোটের কারিগরি ত্রুটি ও সংবিধান বিতর্ক
গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, “আপনারা গণভোটে চারটি বিষয় দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ভোটার যদি একটি বিষয়ে একমত না হয়, তবে সে কী করবে? তাকে তো আপনারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করেছেন।” সংবিধান বাতিল বা ছুঁড়ে ফেলার চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সমস্যা জুলাই নিয়ে নয়, সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা পুরোনো সংবিধানে থেকে যদি সংবিধান বাতিল করতে চান, সেটা হয় না। সংবিধান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দলিল, একে কেন ছুঁড়ে ফেলব? প্রয়োজনে আমরা সংশোধন করতে পারি।”
ভিন্নমত দমন ও জামায়াতের সমালোচনা
কেউ যৌক্তিক কথা বললেই তাকে ‘জুলাইয়ের বিপক্ষের শক্তি’ বানানোর চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি একে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সারা জীবন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে এখন তাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। আবার ইসলামের নামে রাজনীতি করে ভোটের জন্য শেষে এসে বলছেন শরিয়া আইন চাই না। প্রবলেম কী? আপনারা পজিটিভ পলিটিক্স নিয়ে আসেন।”
পজিটিভ রাজনীতির আহ্বান
ব্যারিস্টার পার্থ সব পক্ষকে একসঙ্গে বসে আলাপ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্যে যেন জুলাইয়ের মহান বিপ্লবকে ছোট করা না হয়। সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই যেন সংস্কারের পথে হাঁটা হয়—এমনটাই তার মূল দাবি।


