মধ্যপ্রাচ্যে গুগল-মেটা-অ্যাপলসহ ১৮ মার্কিন প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম পরিচালনাকারী গুগল, মেটা, অ্যাপলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি বড় প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' ঘোষণা করেছে ইরানের আইআরজিসি।

Mar 31, 2026 - 22:54
 0  5
মধ্যপ্রাচ্যে গুগল-মেটা-অ্যাপলসহ ১৮ মার্কিন প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান
×

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্রতর হতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটি গুগল, মেটা ও অ্যাপলসহ মোট ১৮টি মার্কিন জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৮টা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

হামলার সময়সীমা ও নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ

​আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার পর থেকে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাত হানা হতে পারে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মী এবং আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, এই অভিযান হবে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং বিধ্বংসী।

কেন এই হামলার লক্ষ্যবস্তু?

​আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ইরানে যে অভিযান চালাচ্ছে এবং শীর্ষ নেতাদের যে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তাতে এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সহায়তা করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আইসিটি (ICT) খাতে কর্মরত কোম্পানিগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও নজরদারির কাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তথ্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ তেহরানের। এর আগে এসব কোম্পানিকে বারবার সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে বলে আইআরজিসি উল্লেখ করেছে।

হুমকির তালিকায় থাকা ১৮ প্রতিষ্ঠান

​আইআরজিসির তালিকায় থাকা বিশ্বখ্যাত ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে:

​প্রযুক্তি জায়ান্ট: মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, মেটা, অ্যামাজন।

​হার্ডওয়্যার ও চিপ নির্মাতা: ইন্টেল, এনভিডিয়া, আইবিএম।

​আর্থিক ও প্রকৌশল: জেপি মর্গান, ওরাকল, টেসলা এবং বোয়িং।

​বাহিনীটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিটি বৈরী কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এসব কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো চরম ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল ভৌত হামলা নয়, বরং বড় ধরনের সাইবার আক্রমণেরও একটি ইঙ্গিত হতে পারে।