দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান ও জীবনমান সহজিকরণকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী বাজেট প্রণয়ন করার দাবি চরমোনাই পীরের
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান ও জীবনমান সহজিকরণকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পীর সাহেব চরমোনাই।
দেশের চলমান বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংকট ও অভিঘাতের কথা উল্লেখ করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান সহজিকরণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
গত ১৮ মে (সোমবার) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মাসিক কেন্দ্রীয় বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
অর্থনীতির বাস্তব চিত্র ও নতুন বাজেটের চ্যালেঞ্জ:
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "বিগত বহু বছর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ও যথাযথভাবে কাজ করতে পারেনি। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ পরিস্থিতি পার হওয়ার পর, এবারের বাজেটটি প্রণীত হতে যাচ্ছে একটি নির্বাচিত স্বাভাবিক সরকারের নেতৃত্বে। তবে বর্তমান দেশ এক বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে বলেন, অর্থনীতির পুরোনো কাঠামোটি প্রায় ধ্বংসের মুখে, যা উদ্ধারে অতীতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ওপর বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ:
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে এবং মানুষের আয় সক্ষমতা কমেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ নতুন করে কোনো সঞ্চয় তো করতেই পারছে না, বরং আগের জমানো সঞ্চয় ভেঙে কোনোমতে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি না থাকায় নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক ধরনের ধোঁয়াশা বা হতাশা তৈরি হয়েছে।
এই জটিল বাস্তবতার আলোকেই বর্তমানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল, বিশেষ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পীর সাহেব চরমোনাই স্পষ্ট করে বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নতুন বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা, সরকারের অযাচিত ব্যয় সংকোচন এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই কেন্দ্রীয় মাসিক মিটিংয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের এবং কে এম আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।


