দিনদিন পানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে : মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশে পানি সংকট দিনদিন প্রকট আকার ধারণ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে ঢাকার নদীগুলোর পানি বিশুদ্ধকরণের ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুপেয় পানির সংকট দিনদিন চরম ও প্রকট আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা শহরে এই সমস্যা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান পিটার জর্জ এল মেস-এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এই উদ্বেগের কথা জানান। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
ঢাকার নদীগুলোর পানি বিশুদ্ধকরণের তাগিদ:
সাক্ষাৎকারকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণমুক্ত ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশুদ্ধকরণ করা এখন সময়ের দাবি।
বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো সুপেয় ও নিরাপদ পানির মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।" এই তীব্র সমস্যা দ্রুত সমাধানে তিনি ইউনিসেফের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং একই সাথে সরকার ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ইউনিসেফের অতীত ও চলমান ভূমিকার জন্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয়:
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যকার পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউনিসেফের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


