যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্প বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। মব সৃষ্টি করে তেল লুটের অভিযোগ উঠেছে।

Mar 23, 2026 - 07:19
 0  159
যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প
×

যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ মার্চ ২০২৬

​জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি এবং পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

চাহিদা বনাম সরবরাহ ও মানসিক চাপ

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে পাম্পগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তেল কোম্পানিগুলো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরামহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্প কর্মীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

বিশৃঙ্খলা ও 'লুটতরাজ' এর অভিযোগ

সংগঠনটি জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় চরম নিরাপত্তার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি:

​অতিরিক্ত চাপ: ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে ১০,৫০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন মজুত থাকলেও বিশৃঙ্খলার কারণে তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।

​কালোবাজারি: অনেকে দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করছেন, যার ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

​জোরপূর্বক তেল আদায়: গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে পাম্প মালিকদের বাধ্য করা হচ্ছে তেল দিতে। ঠাকুরগাঁওয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাম্পে হামলা ও জ্বালানি লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আল্টিমেটাম

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বর্তমানে শুধুমাত্র পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময় ট্যাংকারগুলোও পথে লুট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংরক্ষিত মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

​সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাম্পগুলোতে যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করা না হয়, তবে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ (লিফটিং) বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সরকার ও জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।