সড়ক দুর্ঘটনা: সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বিস্তর ফারাক কেন?

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা দিয়েছে। প্রকৃত চিত্র নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

Apr 5, 2026 - 11:52
 0  2
সড়ক দুর্ঘটনা: সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বিস্তর ফারাক কেন?
×

দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যে বিস্তর ফারাক পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঈদযাত্রার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের দেওয়া তথ্যের তুলনায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসেবে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এই তথ্যের গরমিল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং প্রকৃত দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আড়ালে থেকে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছে।

পরিসংখ্যানের বৈপরীত্য:

গত ২৯ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদযাত্রায় সব পথ মিলিয়ে মোট ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। তবে এর ঠিক একদিন পর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসেবে এই সংখ্যা ৩৪৮ জন। সরকার দাবি করছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমেছে, কিন্তু যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, গত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫% এবং প্রাণহানি ৮.২৬% বেড়েছে।

তথ্যের উৎস ও গরমিলের কারণ:

​সরকারের অবস্থান: নৌপরিবহন ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও রোড সেফটি অথরিটির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রতিবেদন তৈরি করেন। তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

​বেসরকারি সংস্থার বক্তব্য: যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মূলত 'সেকেন্ডারি সোর্স' বা গণমাধ্যমের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করে। তাদের মতে, গণমাধ্যমে সব দুর্ঘটনার খবর আসে না, তাই প্রকৃত সংখ্যা তাদের দেওয়া তথ্যের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

হাসপাতালের চিত্র ও প্রকৃত ভয়াবহতা:

দুর্ঘটনার প্রকৃত গভীরতা বুঝতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য সামনে এনেছে সংস্থাগুলো। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, ঈদযাত্রার ১৫ দিনে শুধু পঙ্গু হাসপাতালেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২,১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন। দেশে প্রায় ৪ হাজার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেগুলোর তথ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ:

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের দেওয়া এই তথ্য-উপাত্তকে মূল ঘটনার সাথে 'আকাশ-পাতাল ফারাক' বলে মনে করে। তাদের মতে, শুধু একটি হাসপাতালেই যদি ২ হাজারের বেশি আহত রোগী ভর্তি হয়, তবে সারা দেশের চিত্র কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সব হাসপাতালের ডাটাবেজ সমন্বয় না করা পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক চিত্র পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।