যুক্তরাষ্ট্র স্থল আগ্রাসন চালালে ইরানের পক্ষে লড়বে রাশিয়ার চেচেন আর্মি
ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতির মুখে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার চেচেন আর্মি; এই সংঘাতকে ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ ও ‘জিহাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রমজান কাদিরভ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আকাশ অভিযানের ৩২তম দিনে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর মতো নতুন এক ঘোষণা এসেছে। মার্কিন বাহিনী যদি ইরানে স্থল আগ্রাসন শুরু করে, তবে তা প্রতিহত করতে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার চেচেন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চেচেন আর্মির ‘জিহাদ’ ঘোষণা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত বিশেষ সামরিক ইউনিট ‘কাদিরোভৎসি’ ইরানে মোতায়েন হওয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি এই সামরিক অভিযানকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চেচেন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করা তাদের জন্য ‘জিহাদ’ বা সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ের শামিল।
স্থল অভিযানের আশঙ্কা ও ট্রাম্পের পরিকল্পনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বিমান হামলায় কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন স্থল হামলার (Ground Invasion) পরিকল্পনা করছে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। কয়েক সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পরও তেহরান নতি স্বীকার না করায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও ইউক্রেন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের সশস্ত্র বাহিনী গত এক মাসে ইসরায়েলি অবকাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অন্তত ৮৬ দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত আমির সাইদ ইরাভানি এক চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ দিয়ে সরাসরি সহায়তা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই কথিত সংশ্লিষ্টতা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও জটিল ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ দিচ্ছে।
চেচেন আর্মি বা ‘কাদিরোভৎসি’ কারা?
রমজান কাদিরভের নেতৃত্বাধীন এই বিশেষ বাহিনী রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি অত্যন্ত দক্ষ ও দুধর্ষ অংশ হিসেবে পরিচিত। তারা রুশ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলেও তাদের নিজস্ব কমান্ড কাঠামো রয়েছে। সিরিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের বীরত্ব ও রণকৌশল বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছে। এখন ইরানের পক্ষে তাদের এই অবস্থান গ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে একটি বহুমুখী ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে পরিণত করার আশঙ্কা তৈরি করছে


