সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও লোডশেডিং

দেশে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। তবে এই সর্বোচ্চ উৎপাদনের রাতেও মধ্যরাতে দেশজুড়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বড় লোডশেডিংয়ের শিকার হয়েছেন গ্রাহকরা।

May 21, 2026 - 12:00
 0  4
সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও লোডশেডিং
×

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিহাসের এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই প্রথমবারের মতো দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৭ হাজার মেগাওয়াটের ঐতিহাসিক ঘর ছাড়িয়েছে। গতকাল বুধবার (২০ মে) রাত ৯টায় দেশে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। তবে এই রেকর্ড ভাঙা বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও দেশবাসীকে তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, যা মধ্যরাতে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

​পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’র (পিজিসিবি) ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা গত বছরের ২৩ জুলাই উৎপাদিত হয়েছিল।

রেকর্ডের রাতেও কেন লোডশেডিং?

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন মূলত জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর নির্ভর করে।

​পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল বুধবার রাত ৯টায় (যখন সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়) দেশে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট। ওই সময় ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও সঞ্চালন ও বিতরণজনিত সিস্টেম লসের (সিস্টেম লস) কারণে মূল গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয় ১৬ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট। ফলে রেকর্ড উৎপাদনের ওই সুনির্দিষ্ট সময়েও দেশজুড়ে ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।

কয়লা ও গ্যাসে ভরসা, মধ্যরাতে ভোগান্তি চরম:

জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রেকর্ড উৎপাদনের সিংহভাগই এসেছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৮১ মেগাওয়াট এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলসহ তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে এসেছে ৩ হাজার ৪২৬ মেগাওয়াট।

​তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্বস্তির চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। পিজিসিবির ঘণ্টাপ্রতি লোডশেডিংয়ের গ্রাফ অনুযায়ী, রাত ১০টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৪৪৫ মেগাওয়াট, যা রাত ১১টায় একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৮২৩ মেগাওয়াটে। আর রাত ১২টায় দেশের ১৬ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় ১৫ হাজার ৩২৫ মেগাওয়াট। ফলে মাঝরাতেই দেশজুড়ে ১ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াটের এক বিশাল লোডশেডিংয়ের ধাক্কা আসে, যার কারণে চরম গরমে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।