শিশু রামিসার হত্যাকারীসহ সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি খেলাফত মজলিসের
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিতে আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতৃবৃন্দ।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশে হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৯ দিনে ৫টি শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। খেলাফত মজলিস অবিলম্বে রামিসার হত্যাকারীসহ সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে আসন্ন কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট-বাজার ও সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব দাবি ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দুর্বলতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুশাসন নিশ্চিত, শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা, জমি ব্যবহারে বাধা এবং মাদক ও পণ্য চোরাচালানের মতো অপকর্মের তীব্র সমালোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এই সংস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থাকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশীয় খামারী ও উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারতীয় গরু আমদানি এবং চোরাচালান কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। এ লক্ষ্যে সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।
এছাড়াও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বৈঠকে বলা হয়, জুলাই গণহত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে হবে। এর জন্য ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা এবং শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকরের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর দেশবিরোধী অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমনের দাবি জানানো হয়।
উক্ত নির্বাহী বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, বায়তুলমাল সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সালেহীন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু প্রমুখ।


