পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে ঘাতক সোহেল রানার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা। লাশ গুমে সহযোগিতা করায় গ্রেফতার হয়েছে তার স্ত্রীও।

May 21, 2026 - 14:07
 0  3
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে ঘাতক সোহেল রানার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
×

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ঘাতক সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে শিশুটিকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের চেষ্টায় স্বামী-স্ত্রীর নৃশংসতার এক লোমহর্ষক কাহিনি উঠে এসেছে।

​বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, তারা এবং শিশুটির পরিবার একই ভবনের পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় ইয়াবা আসক্ত সোহেল। এরপর ঘরের বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

​ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তারা ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে এবং শরীর ক্ষতবিক্ষত করে।

​এরপর লাশটি বাথরুম থেকে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এই সময় বাইরে থেকে শিশুটির মা দরজায় নক করলে মূল আসামি সোহেলকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সে স্বামীকে সরাসরি সহযোগিতা করে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কৌশলে শিশুটিকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবার মেয়েটিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই কক্ষের সামনে উপস্থিতি টের পায়। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। পুলিশ এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।