হজ থেকে বঞ্চিত গাজাবাসী, ঈদে মিলবে না কুরবানির গোশতও
টানা ইসরায়েলি আগ্রাসন ও সীমান্ত অবরোধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মুসলিমরা এবারও পবিত্র হজ পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সাথে ঈদুল আজহায় মিলবে না কুরবানির গোশতও।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘদিনের চলমান নৃশংসতা ও অমানবিক সীমান্ত অবরোধের কারণে এবারও পবিত্র হজ পালন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গাজার হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম। একই সাথে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সেখানে কোনো কুরবানির পশু জবাই করার মতো পরিস্থিতি না থাকায়, ঈদের দিনেও মিলবে না এক টুকরো কুরবানির গোশত। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতি মুসলিম বিশ্বের হৃদয়কে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করছে।
সীমান্ত বন্ধ থাকায় হজের স্বপ্নভঙ্গ:
ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রাফাহ ক্রসিং বা সীমান্ত পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় গাজা থেকে কোনো ফিলিস্তিনির পক্ষে এবার সৌদি আরবে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি বছর গাজা থেকে হাজারো মুসলিম হজের জন্য আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আকুল আবেদন ও প্রস্তুতি নিলেও, এবার দখলদারদের আগ্রাসী নীতির কারণে তাঁদের সেই স্বপ্ন ও ধর্মীয় অধিকার ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
পশুর তীব্র সংকট ও কুরবানি অসম্ভব:
হজের বঞ্চনার পাশাপাশি গাজাবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে এক বেদনাবিধুর ঈদুল আজহা। গাজার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সর্বাত্মক যুদ্ধ ও কঠোর অবরোধের কারণে বাইরে থেকে কোনো গবাদিপশু গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। এর ফলে পুরো উপত্যকায় কুরবানির পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যে কয়েকটি পশু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বহুগুণ বাইরে চলে গেছে।
গাজার এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, আমরা তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছি। যেখানে প্রতিদিনের দুমুঠো অন্ন জোগাড় করাই অসম্ভব, সেখানে কুরবানি দেওয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না। এবার ঈদের দিন আমাদের সন্তানদের মুখে এক টুকরো কুরবানির গোশত তুলে দেওয়ার মতো কোনো সুযোগও অবশিষ্ট নেই।"
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, হজের মতো মৌলিক ইবাদত থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং ঈদের দিনেও তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা গাজার ফিলিস্তিনি মুসলমানদের এই মানবিক বিপর্যয় রোধে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর এবং শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে।


