বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রচণ্ড গরমে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। তীব্র তাপদাহে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীরাও। চিকিৎসায় তৎপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় প্রচণ্ড গরমে ও তীব্র তাপদাহে প্রতিদিন নানা বয়সি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এছাড়া এই তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে ও মেঝেতে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে বড়বাড়িয়া গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (১১), শান্তিপুর গ্রামের রেখা বিশ্বাস (৪৫), আড়ুলিয়া গ্রামের জোনায়েদ (৯), মাঠিভাঙ্গা গ্রামের সিরাজ শেখ (৬৫), মান্দ্রা গ্রামের নাঈম হোসেন (৪৫) ও ভোটেশ্বর গ্রামের ইলা রানীসহ (৩৫) অন্তত ১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫ জন ছাত্রী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় জানান, এলাকায় তীব্র গরমের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির কিছুটা সংকট রয়েছে। ফলে প্রচণ্ড গরমে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে, যার মধ্যে ডায়রিয়া অন্যতম।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্তদের পাশাপাশি হামের সন্দেহভাজন কিছু রোগীও এসেছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওরিয়েন্টাল ও আইভি স্যালাইন মজুত রয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং সাধারণ মানুষকে এই গরমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।


