সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় গঠন ও ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল
সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় গঠন এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায়টি প্রদান করেছিলেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি বাতিল ঘোষণা করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাটিও অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেন আদালত।
আইনি প্রক্রিয়ার এই ধাপে আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। একই সঙ্গে তারা বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চান। এর প্রেক্ষিতে একই বছরের ২৭ অক্টোবর রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে নিয়োজিত ব্যক্তি ও বিচারিক দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের মূল ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত, যা তিনি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন। তবে রিটকারীদের দাবি, এই ব্যবস্থার কারণে বিচার বিভাগে নির্বাহী বিভাগের পরোক্ষ প্রভাব থেকে যায়, যা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার পরিপন্থী। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে নেওয়া হয় এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে আইনি ও সাংবিধানিক পরিমণ্ডলে এখন নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


