ইসলামে ধর্ষণের কঠোর শাস্তি ও নির্যাতিতার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব
ইসলামে ধর্ষণের কঠোর শাস্তির বিধান এবং নির্যাতিত নারীর আইনি ও সামাজিক সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের করণীয় সম্পর্কে শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
ধর্ষণ শুধু একটি সাধারণ ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং এটি মানবতা, নৈতিকতা এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। ইসলাম নারীর সম্মান, ইজ্জত, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ধর্ষণ দমন ও প্রতিরোধে ইসলামি শরিয়তে রয়েছে কঠোর দণ্ডবিধি, দ্রুত ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সুস্পষ্ট দায়িত্বের নির্দেশনা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক শরিয়তভিত্তিক আলোচনায় ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
ইসলামি শরিয়তে ধর্ষকের কঠোর শাস্তি:
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় জোরপূর্বক ধর্ষণকে ‘জিনা’ বা ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত করে এর কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামি দণ্ডবিধি অনুযায়ী, অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে ধর্ষকের শাস্তি দুই ভাগে বিভক্ত:
অপরাধী বিবাহিত হলে: তার শাস্তি হলো ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।
অপরাধী অবিবাহিত হলে: তার শাস্তি হলো প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত এবং ক্ষেত্রবিশেষে দেশান্তর বা কারাদণ্ড।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন:
‘ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো …’ (সুরা নূর, আয়াত: ২)
নির্যাতিতা নারী সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ও মজলুম:
ইসলামের সুমহান নীতি অনুযায়ী, ধর্ষণের শিকার নারী সম্পূর্ণ নিরপরাধ, নির্যাতিতা এবং মজলুম। যেহেতু তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাই ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁর কোনো পাপ বা শাস্তি নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা কাজ, ভুলে যাওয়া বিষয় এবং জোরপূর্বক করানো বিষয় (ক্ষমা করে দিয়েছেন বা পাপের আওতামুক্ত রেখেছেন)।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৪৫)
রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব:
ইসলাম শুধু অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথাই বলেনি, বরং ভুক্তভোগী নারীর মানসিক পুনর্বাসন, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো—ধর্ষিতার পাশে দাঁড়ানো, আইনি সহায়তার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।
ধর্ষণমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলাম ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, পর্দার বিধান, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে। সমাজে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকর হলে এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হলে নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষিত হবে।


