রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় রাতে তার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঘাতক সোহেল রানার রোমহর্ষক জবানবন্দি।

May 21, 2026 - 21:37
 0  3
রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
×

রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী অবুজ স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মম ও বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও শোকাহত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সরাসরি তাদের বাসায় যাচ্ছেন।

​প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে মন্ত্রিপরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী সশরীরে পল্লবীতে শোকার্ত বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছেন।

​৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ:

এদিকে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।

ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ:

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা নামের এক মাদকাসক্ত যুবক। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই তলার ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে রামিসাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খোঁজখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে পরিবার ও প্রতিবেশীরা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন লাশ এবং বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেন।

আদালতে ঘাতক সোহেল রানার রোমহর্ষক জবানবন্দি:

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পরই ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে সে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় নিজের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়।

​জবানবন্দিতে ইয়াবা আসক্ত সোহেল রানা জানায়, ঘটনার দিন সকালে দরজার সামনে শিশুটিকে দেখে তার মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে বাথরুমে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর শিশু রামিসা এই ঘটনা তার বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে, অপরাধ ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সোহেল।

স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর নৃশংস সহযোগিতা:

হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার পুরো বিষয়টি জানতে পেরে লাশ গুমে স্বামীকে সরাসরি সহযোগিতা করেন। লাশ লুকিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে তারা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে গলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে, তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। লাশটি বাথরুম থেকে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

​ঐ সময় বাইরে থেকে রামিসার মা অনবরত দরজায় নক করতে থাকলে, মূল আসামি সোহেলকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই স্বপ্না দরজা খোলেন। পুলিশ এই ঘটনায় স্বপ্নার সম্পৃক্ততার বিষয়েও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।