‘তেলাপোকা’র ভয়ে কাঁপছে মোদী সরকার, বন্ধ করলো ওয়েবসাইটও
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তুমুল জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে মোদী সরকার।
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সদ্য গড়ে ওঠা তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদী আন্দোলন ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (Cockroach Janata Party - CJP)-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও মূল সমন্বয়ক অভিজিৎ দিপকে আজ শনিবার (২৩ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, মোদী সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও রাজনৈতিক আক্রোশের কারণেই তাদের ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট থেকে একযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভারত সরকারের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বখ্যাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) কর্তৃপক্ষ ভারতের অভ্যন্তরে সিজেপির অফিশিয়াল হ্যান্ডেলটি ব্লক বা অবরুদ্ধ করে দেয়। আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা অভিজিৎ দিপকে আরও অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বারবার হ্যাক করার জন্য সুপরিকল্পিত সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের সূত্রপাত:
ডিজিটাল দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দেশের চলমান তীব্র বেকারত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ভারতের বেকার তরুণদের একাংশকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
যদিও পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যটি দেশের সাধারণ বা সৎ তরুণদের উদ্দেশে ছিল না; বরং তিনি ভুয়া ডিগ্রিধারী ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
তবে প্রধান বিচারপতির সেই মন্তব্যকে বেকার তরুণদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য করে এর অভিনব ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ গড়ে তোলেন ডিজিটাল ক্রিয়েটর অভিজিৎ দিপকে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নামের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে রসাত্মকভাবে তিনি এর নামকরণ করেন ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)। মাত্র এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভাবনীয় ও ঝড়ের গতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অনুসারীর সংখ্যায় বিজেপিকে টপকে গেছে সিজেপি:
ব্যঙ্গাত্মক এই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা কতটা আকাশচুম্বী, তা প্রকাশ পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিসংখ্যানে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে খোদ ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ৯০ লাখের কিছু বেশি।
আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা দিপকের দাবি, গত সাত দিনে ভারতের প্রায় ১০ লাখ তরুণ-যুবক এই আন্দোলনের সদস্য হওয়ার জন্য সিজেপির ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেছিলেন। একই সময়ে দেশটিতে চলমান সরকারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) ভয়াবহ প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে সিজেপির অনলাইন পিটিশনে মাত্র কয়েক দিনে ৬ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন।
মেডিকেল প্রশ্নফাঁস নিয়ে ভারতে যখন দেশজুড়ে মোদী সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও অসন্তোষ চলছে, ঠিক সেই মোক্ষম সময়ে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র এই নজিরবিহীন ডিজিটাল উত্থান ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন এবং শক্তিশালী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর এই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েই তড়িঘড়ি করে আন্দোলন দমনে মোদী সরকার সেন্সরশিপের আশ্রয় নিয়ে ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে বলে দাবি করছেন সিজেপির সমর্থকরা। তবে বরাবরের মতোই এই ডিজিটাল সেন্সরশিপ বা ওয়েবসাইট ব্লকের বিষয়ে ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।


