স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে আসছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। থাকছে না পোস্টার, ইভিএম ও দলীয় প্রতীক।

May 22, 2026 - 14:38
 0  4
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে আসছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
×

দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কোনো ধরনের কাগজের পোস্টার ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্বাচনী ব্যয় কমাতে নির্বাচন কমিশন এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

​এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংশোধিত বিধিমালায় বেশ কিছু কাঠামোগত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিধিমালায় যেসব বড় পরিবর্তন আসছে:

​পোস্টার ও ইভিএম বাতিল: নির্বাচনে কোনো ধরনের কাগজের পোস্টার ব্যবহারের বিধান থাকছে না। একই সাথে ভোটগ্রহণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) ব্যবহারের নিয়মও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, সনাতন ব্যালট পেপারেই ভোট হবে।

​অনলাইন মনোনয়ন বাতিল ও নির্দলীয় ভোট: অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটি বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচন সম্পূর্ণ ‘নির্দলীয়’ বা প্রতীকহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো প্রার্থী রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রতীক (যেমন: নৌকা, ধানের শীষ ইত্যাদি) ব্যবহার করতে পারবেন না।

​১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর বাতিল: বর্তমানে নির্দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে জটিল বাধ্যবাধকতা রয়েছে, নতুন বিধিমালায় সেটিও বাতিল করা হচ্ছে।

​জামানত বৃদ্ধি: আসন্ন উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।

​আইসিটি মামলার আসামিরা অযোগ্য: প্রবাসী বা পোস্টাল ভোটের কোনো সুবিধা এই নির্বাচনে থাকবে না। এছাড়া আইনের চোখে পলাতক বা ফেরারি আসামিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত (অভিযোগপত্র দাখিল হওয়া) কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

জুন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত বিধিমালা:

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, পবিত্র ঈদুল আজহার পরপরই এই সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের ৪ স্তম্ভ:

একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার ৪টি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন—

১. সরকারের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি: নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে হলে সরকারের শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং প্রশাসনকে প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।

২. রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ: দলগুলোকে সহিংসতা ও মাঠ উত্তপ্ত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখতে হবে।

৩. ইসির আপসহীন হুংকার: নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো বাহিনী বা দৃশ্যমান শক্তি না থাকলেও নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে কঠোর 'হুংকার' দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

৪. ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সততা ও নেতৃত্ব: মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের শতভাগ সততা ও সাহসিকতার সাথে জাল ভোট প্রতিরোধ করতে হবে।

​ইসি মাছউদ বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বড় রাজনৈতিক জোটগুলো চমৎকার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আচরণবিধি মেনে চলেছে। আমরা আশা করি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হবে। তবে কোথাও কোনো অনিয়ম বা কারচুপি ধরা পড়লে কমিশন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে।