এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল আজহায় আড়াই কোটি মানুষ ও পশুর পরিবহণ বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় অল্প সময়ের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ এবং কুরবানির পশু পরিবহণ করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবারের ঈদযাত্রা সম্পূর্ণ স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ক্ষতিপূরণের ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ:
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে এবং বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জন এবং গুরুতর আহত ৩৩ জনের পরিবারের মাঝে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান ও ক্ষতিপূরণের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।
মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা:
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম জানান, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে দ্রুত ১০ লেনে উন্নীত করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা ও প্রাথমিক কাজ চলছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর চার লেন ও আধুনিকায়নের কাজও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশের অবকাঠামো ও পরিবহণ ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছরই ঈদের সময় চাপ তৈরি হয়। তবে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, জনগণের সচেতনতা এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমরা একটি সুন্দর ঈদযাত্রা উপহার দিতে পারব।"
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ ও প্রতিকার:
দেশে সড়ক দুর্ঘটনার চালচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর প্রধান কারণ চালকদের অদক্ষতা, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো, আনফিট (ফিটনেসবিহীন) যানবাহন এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতা। সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে এবং নিহত-আহত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনে সরকার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য ও সংসদ সদস্যের ক্ষোভ:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, "আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। দেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ ব্ল্যাক স্পটগুলো (স্থান) এবং কারণ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে দুর্ঘটনার পরিমাণ আগের চেয়ে কমে আসছে।"
তবে মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সড়কে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আসলে কত, তা আমি আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাই। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংস্কার ও উন্নয়নে এ পর্যন্ত মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাবও জনগণের সামনে আসা দরকার।"
কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


