রামিসা হত্যার বিচার: ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে সংশ্লিষ্ট আদালত
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতেও সংশ্লিষ্ট আদালত খোলা রাখার নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যার ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম রেকর্ড সময়ের মধ্যে শেষ করতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও এই মামলার শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত সম্পূর্ণ খোলা রাখার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ধাপগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ তদারকি ও ঈদের ছুটিতেও আদালত:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, "শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ ব্যাহত না করে রকেট গতিতে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আসন্ন ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও সংশ্লিষ্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা আদালত খোলা রাখার বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম কোর্ট’ প্রয়োজনীয় ও বিশেষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।"
সাম্প্রতিক সময়ে কোমলমতি শিশুদের ওপর পৈশাচিক বর্বরতা ও সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "এটি আসলে আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি চরম ও কুৎসিত রূপ। এই সংকট থেকে বাঁচতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে দ্রুত সামাজিক সংস্কার প্রয়োজন। কিছু পশ্চিমা ও ভিনদেশী অপসংস্কৃতি আমাদের যুবসমাজ ও সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ধর্ষণের যে মাত্রা, তীব্রতা ও বিকৃত ধরন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা কোনো সভ্য সমাজের সহ্যসীমার মধ্যে পড়ে না।"
রেকর্ড সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা ও চার্জশিট:
মামলার সাঁড়াশি তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পৈশাচিক এই ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত ঘাতক সোহেল রানাকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামি আদালতে নিজের লোমহর্ষক অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার ঠিক এক দিনের মাথায় এই জঘন্য অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে তার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আমরা সম্পূর্ণ রেকর্ড সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী ও ঘাতকের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছি। শুধু এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য আমরা একজন বিশেষ ও অভিজ্ঞ পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) নিয়োগ দিয়েছি। সার্বিক আইনি দিক বিবেচনা করে আশা করছি, আজ রোববারের মধ্যেই আদালতে মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ৫ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।"


