দুঃসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে প্রস্তাব দিলেন বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবির

পশ্চিমবঙ্গের ভবানিপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ফেরাতে নিজের ‘রেজিনগর’ আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন হুমায়ুন কবির।

Jun 5, 2026 - 10:10
 0  5
দুঃসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে প্রস্তাব দিলেন বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবির
×

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-উত্তর উত্তপ্ত রাজনীতিতে এক নতুন ও নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হেভিওয়েট নেতা হুমায়ুন কবির। একসময় দলবিরোধী জোরালো অবস্থানের কারণে দল থেকে ঘাড়ধাক্কা খাওয়া এই মুসলিম নেতা এখন চরম রাজনৈতিক দুঃসময়ে পড়া তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় রাজ্য বিধানসভায় ফিরিয়ে আনতে নিজের জেতা বিধানসভা আসনটি বিনাশর্তে ছেড়ে দেওয়ার প্রকাশ্য প্রস্তাব দিয়েছেন।

​সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভবানিপুর কেন্দ্র থেকে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নজিরবিহীনভাবে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁরই সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমান নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানিপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই যুগপৎ জয়ী হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আইনি নিয়মে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি নিজের কাছে রেখে ভবানিপুর আসনটি ছেড়ে দেন। ভবানিপুরে হেরে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বিধায়ক (MLA) নন। ফলে বিধানসভায় পা রাখতে বা নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টেকাতে হলে তাঁকে যেকোনো একটি আসনে উপনির্বাচনে অবশ্যই জয়ী হয়ে আসতে হবে।

সাহায্যের হাত ও নিজস্ব রাজনৈতিক প্রভাব:

মমতার এমন চরম রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে আকস্মিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবির। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নিজস্ব একটি নতুন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং এবারের নির্বাচনে একক শক্তিতে লড়ে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন।

​হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি রাজনৈতিক বৈতরণী পার হতে চান, তবে তিনি তাঁর ‘রেজিনগর’ আসনটি মমতার জন্য সানন্দে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত; যাতে সেখানে দ্রুত উপনির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল নেত্রী অনায়াসে জিতে বিধানসভায় ফিরতে পারেন।

রেজিনগরে হুমায়ুন কবিরই শেষ কথা:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে হুমায়ুন কবির বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে সরাসরি আমার কাছে আসেন বা যোগাযোগ করেন, তাহলে আমি তাঁকে রেজিনগর আসন থেকে জিতে সসম্মানে বিধানসভায় পাঠাতে পারি। তিনি যদি ভাবেন আবার নন্দীগ্রাম থেকে লড়ে জিতবেন, তবে তা পারবেন না। কিন্তু তিনি চাইলে আমি রেজিনগর থেকে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করব এবং আমার কেন্দ্রে তাঁর শতভাগ জয় নিশ্চিত করব।”

​বিগত দিনে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান এই করুণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থার প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আজ তিনি (মমতা) যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন, তা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রচণ্ড কষ্ট দেয়। অতীত যা-ই হোক না কেন, আমি রাজনৈতিকভাবে আজ যা হতে পেরেছি, তার পেছনে আদি কারণ কিন্তু তিনিই ছিলেন।”

​তবে মমতাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলায় নিজের একক রাজনৈতিক আধিপত্য ও প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেও ভুলেননি এই মুসলিম নেতা। তিনি সগর্বে দাবি করেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুর্শিদাবাদে হয়তো অনেকেই এখন মমতার কথা শুনবেন না বা মানবেন না, কিন্তু রেজিনগরে আজও হুমায়ুন কবিরই শেষ কথা।” হুমায়ুন কবিরের এই নাটকীয় প্রস্তাবের পর তৃণমূলের অন্দরমহলে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।