‘তখন সে কসম করে বলেছিল, আমি কখনও ভিডিও প্রচার করব না’ ‘ভাইরাল ভিডিও’ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মাদানী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি গানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে এর পেছনের আসল সত্য ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ফাঁস করলেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

May 26, 2026 - 07:48
 0  4
‘তখন সে কসম করে বলেছিল, আমি কখনও ভিডিও প্রচার করব না’ ‘ভাইরাল ভিডিও’ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মাদানী
×

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি রোমান্টিক গানের ঘরোয়া ভিডিও ব্যাপক আকারে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশের আলোচিত ও বিতর্কিত তরুণ ইসলামি বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী (যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিত)। ভিডিওটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় চলমান তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জবাবে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে পুরো ঘটনার পেছনের সত্যতা ও এক বিশ্বাসভঙ্গের গল্প উন্মোচন করেছেন তিনি। একইসঙ্গে এই ভিডিওকে পুঁজি করে ট্রল বা উপহাস করায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

​উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ছোট ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়ে মাদানী নিশ্চিত করেন যে— ভিডিওটি কোনো এডিটিং বা কৃত্রিম (AI) নয়, বরং এটি প্রায় আড়াই বছর আগে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মুহূর্তে তাঁর নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে গাওয়া একটি খাঁটি ইসলামিক সংগীতের ক্লিপ।

কসম কেটে ভিডিও ধারণ ও সিলেটের সেই বেইমানির গল্প:

ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে লিখেন, “আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি মনোরম রিসোর্টে বসে একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে আমার স্ত্রীকে একটি ভালোবাসার সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বেইমান, যার নাম সাকালাইন শাফি, সে আমাদের অজান্তে পেছন থেকে লুকিয়ে ভিডিওটি ধারণ করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি ধরে ফেলি এবং তাকে জেরা করি, তখন সে বারবার অনুনয়-বিনয় করে বলেছিল, ‘ভাই, এই ভিডিও আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকবে, আমি কখনোই এটি কোথাও ছড়াব না বা ইন্টারনেটে ছাড়ব না’।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “আরেকটি ভিডিও তার কাছে ছিল, যেখানে আমরা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরে আনন্দ করছিলাম, সেটাও সে গোপনে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন তাকে বলি— ভাই ভিডিওটি এখনই ডিলিট করুন, তখন সে আল্লাহর নামে কসম খায় এবং বলে— ভাই আমি কখনও এই ভিডিও কোথাও কোনোদিন প্রচার করব না! কিন্তু সে তার একটি কথাও রাখেনি। মানুষের সেই চরম বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতায় মনে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে আমি বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় আর কোনো ওয়াজ মাহফিল বা প্রোগ্রামের দাওয়াতে যাই না। আমার অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন করে বারবার দাওয়াত দিলেও সবাইকে বিনয়ের সাথে না করে দিয়েছি; কিন্তু ভেতরের এই কষ্টের কারণটা এতদিন কাউকে খুলে বলিনি!”

আওয়ামী লীগ ও সমালোচকদের কড়া জবাব:

ভিডিওটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া ট্রল প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মাদানী তাঁর পোস্টে লিখেন, “এখন সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকেরা এবং তাদের আইটি সেল নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে মজা নিচ্ছে। তাদের সাথে কিছু স্বজাতীয় গাদ্দার ও হিংসুকগুলোও যোগ দিয়েছে। তারা মনে করছে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অপকর্ম কিংবা যেকোনো দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব।”

​তিনি নিজের অতীতের কারাবাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কঠোর ভাষায় বলেন, “বিগত শেখ হাসিনা সরকার আমাকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক মানসিক নির্যাতন করেছিল। এমনকি কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল করারও নিকৃষ্ট চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ি! কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। আমি সেদিনও থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের একটা স্পষ্ট পরামর্শ দিচ্ছি— আমাকে নিয়ে সস্তা ট্রল করার পেছনে সময় নষ্ট না করে, নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং কীভাবে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন!”

​বিবৃতির শেষে মাদানী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি আমার নিজস্ব আদর্শ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে নির্ভীকভাবে সামনে এগিয়ে যাব। সমাজে মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে অনমনীয় কথা বলাই আমার জীবনের মূল লক্ষ্য। আমাকে সস্তা অপবাদ দিয়ে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি এবং সব সময় অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি।”