সড়কে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই রক্তবন্যা: ৬ জেলায় ঝরল শিশু-নারীসহ ২৮ প্রাণ

ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিনেই দেশের ৬টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু।

May 26, 2026 - 07:31
 0  3
সড়কে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই রক্তবন্যা: ৬ জেলায় ঝরল শিশু-নারীসহ ২৮ প্রাণ
×

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির প্রথম দিনেই দেশের সড়ক-মহসড়কগুলোতে এক রক্তক্ষয়ী ও মর্মান্তিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের অন্তত ছয়টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ২৮ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও পৈশাচিক ট্রাজেডি ঘটেছে টাঙ্গাইলে, যেখানে একটি নিয়ন্ত্রণহীন রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে পড়ে গিয়ে একই সাথে ১৫ জন শ্রমজীবী মানুষের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। ঈদযাত্রার শুরুতেই এমন ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবার ও জেলাগুলোতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ শ্রমিকের মৃত্যু:

মহাসড়ক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লোহার রডবোঝাই একটি বড় ট্রাকের ওপর প্রায় ৩০ জন দিনমজুর ও হকার যাত্রী হিসেবে সস্তা ভাড়ায় চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

​পথিমধ্যে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। ভারী লোহার রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন যাত্রী পিষ্ট হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হন, যাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই নওগাঁ জেলার একই ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বগুড়ায় দুই পৃথক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু:

বগুড়ায় সোমবার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে দুটি অবুজ শিশুকন্যা রয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বনানী এলাকায়। রংপুরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত আনিছুর রহমান (৩৫) ঈদের ছুটিতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি পাবনায় যাচ্ছিলেন। পথে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত যান তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা আনিছুর ও তাঁর ৪ বছরের কন্যাসন্তান পুষ্প নিহত হন এবং স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

​দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে বিকেলে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া এলাকায়। সেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি ধাক্কায় জেমি আকতার ও তাঁর কন্যাসন্তান তনু আকতার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

অন্যান্য জেলার দুর্ঘটনার চিত্র:

ছয় জেলার বাকি স্থানগুলোতেও ছিল মৃত্যুর মিছিল—

কিশোরগঞ্জ: জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সিরাগঞ্জ: জেলার শাহজাদপুর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও স্থানীয় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও নোয়াখালী: এই তিন জেলায় বেপরোয়া গতির কারণে সংঘটিত পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জন আরোহী ও পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন।

​হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির কারণে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিমগুলো দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে এবং নিহতদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলছে।