ঈদের দিনে পরীক্ষা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট
ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির দিনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে রিট করেছেন এক শিক্ষার্থী। এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছেন।
আবেদনকারী শিক্ষার্থী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সমন্বিত আইন কোর্সের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রিটে বলা হয়, ভারত সরকার ২৮ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানও ওই দিনের ছুটি পুনর্নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা পেছাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় উৎসবের দিনে পরীক্ষা আয়োজন মুসলিম শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধানের:
১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ: আইনের দৃষ্টিতে সমতা
২১ নম্বর অনুচ্ছেদ: ব্যক্তিস্বাধীনতা
২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় স্বাধীনতা
২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ: সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকারের পরিপন্থী।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্র্যাটার্নিটি মুভমেন্টের সভাপতি আহাম্মদ রবীহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন:
"প্রশাসন মুসলিম শিক্ষার্থীদের এমন এক অসহনীয় পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যেখানে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব ও শিক্ষাজীবনের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।"
স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন (SIO) অব দিল্লি ইউনিভার্সিটিও এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ধর্মীয় অনুভূতি ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের প্রতি চরম অবহেলার পরিচয়। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA) পরীক্ষার সময়সূচি অবিলম্বে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২৮ মে ছুটি ঘোষণা করে একটি সার্কুলার জারি করলেও স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই দিনের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে বিষয়টি দিল্লি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় রেখে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা।
তথ্যসূত্র: মুসলিম মিরর


