রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজ, শেষ পর্যায়ে তদন্ত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার চার্জশিট আজ রোববার আদালতে দাখিল করা হতে পারে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

May 24, 2026 - 10:10
 0  3
রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজ, শেষ পর্যায়ে তদন্ত
×

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আজ রোববার (২৪ ২৪ মে) আদালতে দাখিল করা হতে পারে। ডিএনএ (DNA) প্রোফাইলিং, ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্টের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ সংবাদমাধ্যমকে চার্জশিট প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত শেষ পর্যায়ে, যাচাই-বাছাই করছেন ঊর্ধ্বতনরা:

এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জটিল প্রক্রিয়াটি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে নিখুঁত ও অকাট্য একটি চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ চলছে। তিনি বলেন, "আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিএনএ রিপোর্টসহ বিভিন্ন ফরেনসিক প্রতিবেদন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করছেন। আইনি ও দাপ্তরিক সব আনুষ্ঠানিকতা ঠিক থাকলে আজ রোববারের মধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার চার্জশিট আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।"

ঈদের পরপরই বিচার শুরুর ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর:

এদিকে শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীতে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটির আগেই আদালতে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে এর আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।"

​আইনমন্ত্রী আরও যোগ করেন, সরকার কেবল রামিসার মামলাই নয়, বরং দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অন্যান্য চাঞ্চল্যকর শিশু ও নারী নির্যাতন মামলাগুলোকেও অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; যাতে কোনো অপরাধী পার পেয়ে যেতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আলটিমেটাম দিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আসামির জবানবন্দি:

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষ থেকে শিশু রামিসা আক্তারের বিচ্ছিন্ন মাথা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

​হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়া মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে গত ২০ মে নারায়ণগঞ্জের একটি গোপন আস্তানা থেকে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর ২১ মে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের পৈশাচিক অপরাধের কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক ও স্বেচ্ছামূলক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালত সেই জবানবন্দি রেকর্ড করে ঘাতক সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​তদন্ত সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্র জানায়, মাদকাসক্ত সোহেল রানা ঘটনার দিন সকালে কৌশলে প্রতিবেশী শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায় এবং বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে অপরাধের কথা মা-বাবার কাছে ফাঁস করে দেওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে আলামত নষ্টের চেষ্টা করে। পুলিশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সংগৃহীত অকাট্য ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে ঘাতক সোহেল রানার সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।