গাজায় কোরবানির মাংস যেন আকাশ ছোঁয়া ব্যাপার

যুদ্ধ, তীব্র খাদ্যসংকট ও পশুর অস্বাভাবিক মূল্যের কারণে গাজায় এবার ঈদুল আজহার আনন্দ ম্লান। ১০ থেকে ১৫ গুণ বেড়েছে কোরবানির পশুর দাম, সামর্থ্য হারিয়েছেন অধিকাংশ বাসিন্দা।

May 27, 2026 - 15:21
 0  2
গাজায় কোরবানির মাংস যেন আকাশ ছোঁয়া ব্যাপার
×

গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এক নির্মম বাস্তবতায়। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, চরম দারিদ্র্য ও তীব্র খাদ্যসংকটের কারণে উৎসবের আনন্দ সেখানে অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নতুন পোশাক, কোরবানির পশু কিংবা ঈদের মিষ্টান্ন—সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

​সেখানে কোরবানির পশুর দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কোরবানির পশু কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন গাজার অধিকাংশ বাসিন্দা। স্থানীয়রা বলছেন, বাজারে গেলেও কিছু কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। অনেক পরিবার এবার শিশুদের জন্য সামান্য খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে। ক্রমাগত যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

​জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশিরভাগ মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ করতে না পারায় বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি আরও প্রকট রূপ ধারণ করেছে।

​ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি হলেও গাজায় এবার পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে যে ভেড়া বা ছাগল ১ হাজার শেকেলে পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ থেকে ১৫ হাজার শেকেল পর্যন্ত। ফলে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই এবার কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন:

​"যুদ্ধের কারণে খামার ধ্বংস, পশুখাদ্যের চরম সংকট ও পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে পুরো গাজায় যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশ পশু অবশিষ্ট আছে।"

​শুধু কোরবানিই নয়, ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করাও সেখানে এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাব থাকায় অনেক পরিবার ঘরে ঈদের পিঠা বা বিস্কুট তৈরি করতে পারছে না। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু পরিবার সীমিত সামর্থ্যের ভেতরেই শিশুদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

​গাজার বাসিন্দাদের কণ্ঠে ঝরে পড়ছে কেবলই দীর্ঘশ্বাস। তারা বলছেন, এখন তাদের জীবনে আনন্দের চেয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা ও কষ্টই বেশি। যুদ্ধের গভীর ক্ষত আর সীমাহীন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই গাজাবাসী পালন করছে এবারের ঈদুল আজহা।

​তথ্যসূত্র: এএফপি