পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া এসবি পরিবহনের বাসটি আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীরা আগে নামায় কোনো হতাহত নেই।

Jun 5, 2026 - 14:14
 0  2
পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি
×

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৈশকোচ সরাসরি প্রমত্তা পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। তবে ফেরিতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে বাসের চালক ও হেলপার ব্যতীত ভেতরের সব যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে দেওয়ায় কোনো ধরনের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা ৩৮ জন যাত্রী।

​আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় নদী থেকে বাসটিকে সম্পূর্ণ ওপরে তুলে আনা হয়। দুর্ঘটনার শিকার বাসের চালক ও হেলপারকেও জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ:

বাসের প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী হীরক আহমেদ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট ৪ জন কুষ্টিয়া থেকে ‘এসবি পরিবহন’ নামের এই যাত্রীবাহী বাসে উঠি। বাসে আমাদের সাথে আরও প্রায় ৩৮ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমাদের বহনকারী বাসটি দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে এসে পৌঁছালে ঘাটের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার ও হেলপার বাদে আমরা সব যাত্রী বাস থেকে নিচে নেমে যাই। এর ঠিক ২-৩ মিনিট পর বাসটি যখন একাই পন্টুন পার হয়ে ফেরিতে উঠতে যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি নদীতে পড়ে চোখের পলকে তলিয়ে যায়। যাত্রীরা বাসের ভেতরে থাকলে আজ কেউ বাঁচত না।”

বিআইডব্লিউটিসি ও প্রশাসনের বক্তব্য:

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এসবি পরিবহনের ঢাকাগামী বাসটি দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। যেহেতু বাসের সব যাত্রীকে আগেই নিয়ম মেনে নামানো হয়েছিল, তাই কোনো নিখোঁজ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। চালক ও সহকারী সাঁতরে ওপরে উঠে এসেছেন।”

​দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফরোজা পারভীন বলেন, “নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ-এর সমন্বিত আড়াই ঘণ্টার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাসটিকে নদী থেকে টেনে তোলা হয়েছে। বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের ট্রাজেডি থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। বাসের ডিকিতে থাকা যাত্রীদের মালামাল ও ব্যাগগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা এখন যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের মালামালগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছি।”

​তিনি দেশের সকল দূরপাল্লার বাস ও নৌযাত্রীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সবার প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ— আপনারা যাতায়াতে সচেতন থাকবেন। ফেরিতে বাস ওঠার সময় বা নামার সময় অলসতা না করে বাধ্যতামূলকভাবে বাস থেকে আগে নেমে যাবেন এবং লঞ্চে যেন অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

​উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সোহার্দ্য পরিবহন’ নামের আরেকটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাটে উঠতে গিয়ে একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় যাত্রীরা বাসের ভেতরে আটকে থাকায় নারী ও শিশুসহ ২৬ জন যাত্রী নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে আজ রক্ষা পাওয়া যাত্রীরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন।