ঈদে ঘরমুখো মানুষের হয়রানি রোধে সরকারের কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান হতে হবে: অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ
ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ ও পরিবহন খাতে বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান ও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব।
ঢাকা কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশ, পারিবারিক বন্ধন, আত্মীয়তার টান ও সাংস্কৃতিক কারণে ঈদে লাখো মানুষ ঘরমুখো হয়। মানুষের এই ঘরে ফেরা সামাজিক পুঁজিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আর্থিক খাতে তারল্যের প্রবাহও বৃদ্ধি করে। কিন্তু ঈদে মানুষের ঘরে-ফেরা নিয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতা দেখে মনে হয় মানুষ কোনো অপরাধ করছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ।
বিবৃতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর দুর্ঘটনা, বাড়তি ভাড়া আদায়, যানজট ও বিশৃঙ্খলা যেন আমাদের ঈদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। গতকালও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৫ জন মানুষ মারা গেছে। রাস্তায় তিন থেকে চার গুণ ভাড়া বেশি আদায় করা হচ্ছে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাড়তি ভাড়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত বাসে উঠতে পারছে না। এহেন বাস্তবতায় সরকার কী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানা নেই, তবে জনগণের হয়রানি ও দুর্ভোগ দূর হয়নি।
মহাসচিব সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন:
"ঈদে ঘরমুখো মানুষের হয়রানি ও দুর্ভোগ লাঘব করতে প্রশাসনের কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান করুন। পরিবহন খাতের মালিকদের স্বার্থ না দেখে জনগণের স্বার্থ দেখুন।"
বিবৃতিতে পোশাক খাতের শ্রমিকদের বহুমাত্রিক দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস কম, সকলে একসাথে ছুটি পায়, আবার অনেকে সময়মতো বেতন-বোনাসও পায় না। এর ওপর বাড়িতে যাওয়ার সময় তাদেরকে দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া গুনতে হয়। ফলে তাদের উপার্জিত টাকা রাস্তাতেই খরচ হয়ে যায়। টাকা বাঁচাতে অনেকেই অপ্রচলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত পদ্ধতি বেছে নেয়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে ঈদযাত্রা একটি বহুমাত্রিক অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। তাই পরিবহন খাতে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ঈদযাত্রাকে সহজ ও আনন্দময় করতে প্রশাসনিক উদ্যোগকে আরো দৃশ্যমান ও কঠোর করার জোর দাবি জানান তিনি।


