জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছে গ্রাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটে দেশের ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ; চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং।

Apr 21, 2026 - 16:45
 0  2
জ্বালানি সংকটে ১৮ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছে গ্রাম
×

দেশে চলমান তীব্র দাবদাহের মধ্যে জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে দেশের ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং আরও ৩৫টি কেন্দ্রের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

​বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তবে এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো। চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের এই ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক লোডশেডিং। তবে এই ভোগান্তির বণ্টনে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের প্রভাব কয়েক গুণ বেশি। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় গড়ে ১১২২ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।

​জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই যুদ্ধের প্রবাদে আমদানিকৃত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সাপ্লাই চেইন’ ভেঙে পড়েছে। ফার্নেস তেল, কয়লার উচ্চমূল্য এবং এলএনজি আমদানিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন ধুঁকছে। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার এখন গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে, যা তুলনামূলক সাশ্রয়ী। তবে চাহিদার তুলনায় সেই জোগানও পর্যাপ্ত নয়।

​লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল গ্রিডে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনে ৭ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে। রংপুরের পীরগাছা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের মতে, এখনো প্রচণ্ড গরম শুরু না হতেই যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে, তাতে সেচ কাজসহ দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইভাবে রাজশাহী ও ময়মনসিংহের গ্রামগুলোতেও ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

​বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব উৎপাদনে পড়লেও তারা চেষ্টা করছেন যেন লোডশেডিং খুব বড় আকার ধারণ না করে। তিনি জানান, ফার্নেস তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে এবং সাশ্রয়ী কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

​এদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৯টার পর দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক জায়গায় তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি আমদানির সংকট দ্রুত সমাধান না হলে গ্রীষ্মের খরতাপে এই ভোগান্তি আরও চরম রূপ নিতে পারে।