রাষ্ট্রের সর্বত্র অব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান, সরকারকে কাজে সক্রিয় হতে হবে: অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ
নির্বাচনের দুই মাস পরও জ্বালানি, পরিবহন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও রাষ্ট্রের সর্বত্র অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি ও পরিবহন খাতের অরাজকতা
জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ইউনুস আহমদ বলেন:
স্বেচ্ছাচারিতা: অর্ধশতাব্দীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একটি রাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের বর্তমান বিশৃঙ্খলা কল্পনা করা কঠিন।
হাহাকার: সরকারের দাবি অনুযায়ী তেলের মজুদ যথেষ্ট থাকলেও বাস্তবে মানুষকে তেলের জন্য হাহাকার ও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
কর্মপরিকল্পনার অভাব: তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন খাতে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
বাজার পরিস্থিতি ও লোডশেডিং
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে রাষ্ট্রে কোনো সরকার আছে বলে মনে হয় না। লোডশেডিং পরিস্থিতিতে মানুষ নাজেহাল হচ্ছে, কিন্তু পরিস্থিতি উত্তরণে আস্থা তৈরির মতো কোনো কার্যক্রম নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ঈদে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা ছিল নজিরবিহীন এবং ব্যাংকিং খাতের সংকট মানুষের অনাস্থাকে আরও বাড়িয়েছে।
জননিরাপত্তা ও প্রত্যাশাভঙ্গ
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের পর দেশের মানুষের মাঝে যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন হতাশায় পরিণত হচ্ছে। জননিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি দাবি করে তিনি সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দ্রুত সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, লোকমান হোসেন জাফরী, মুফতি দেলওয়ার হোসাইন সাকী, মুফতি মোস্তফা কামাল, ডাক্তার শহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, মাওলানা মানসুর আহমেদ সাকী প্রমুখ।


