বাজেটে জুলাই আন্দোলনের স্বীকৃতি
বিএনপি সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত বাজেটেই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তার সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বিএনপি সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত বাজেটেই ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই আন্দোলনে আহত 'জুলাই যোদ্ধাদের' উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিও তুলে ধরেছে সরকার।
বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে গণতন্ত্রের পথে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছে।"
বাজেট বক্তৃতায় দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। ২০১৬ সালে ঘোষিত 'ভিশন ২০৩০', ২০২২ সালের 'রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা', এবং ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলনের '৩১ দফা'-র ভিত্তিতে বিএনপির নেতৃত্বে দেশজুড়ে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেটিই মূলত ফ্যাসিবাদ বিরোধী চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক জমিন তৈরি করেছে। আর এই জমিনের ওপর দাঁড়িয়ে ও অনুপ্রেরণা নিয়েই সংঘটিত হয়েছে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বিএনপি এই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও সম্প্রসারিত প্রস্তাব 'জুলাই জাতীয় সনদে' উপস্থাপন করেছে। দল ও সরকারের পক্ষ থেকে যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তৃতার একাধিক স্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের পথকে নির্দেশ করে।


