পরীমনিকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে এডিসি সাকলায়েনকে
চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি’র সাবেক এডিসি মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও সরকারি বাসভবনে রাত্রিযাপনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি’র সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এই গুরুদণ্ড প্রদান করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সারসংক্ষেপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। এখন সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে:
নিয়মিত যোগাযোগ ও রাত্রিযাপন: তদন্তে দেখা গেছে, পরীমনির সঙ্গে সাকলায়েনের ব্যক্তিগত পর্যায়ে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠতা ছিল। সিডিআর ও ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত ও রাত্রিযাপন করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে ১৭ ঘণ্টা: সিআইডি’র ফরেনসিক প্রতিবেদনে ১ আগস্ট ভোর থেকে ২ আগস্ট রাত পর্যন্ত রাজারবাগ পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার্সে পরীমনির ১৭ ঘণ্টা অবস্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। সাকলায়েনের স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে তিনি পরিকল্পিতভাবে পরীমনিকে সরকারি বাসায় নিয়ে আসেন।
অনৈতিক সম্পর্ক: মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের কথোপকথন থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি কোনো পেশাগত সম্পর্ক ছিল না, বরং বিবাহিত ও সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।
বিভাগীয় ব্যবস্থা ও গুরুদণ্ড:
পরীমনিকাণ্ডের পর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে প্রথমে মিরপুরের পিওএম-এ এবং পরবর্তীতে ঝিনাইদহে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন তার তদন্তে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা-২ শাখার উপসচিব রোকেয়া পারভীন জুঁই স্বাক্ষরিত নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়েই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


