বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী
দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট এবার ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি ও প্রধান চালিকাশক্তি নিহিত রয়েছে সুশিক্ষার মধ্যে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টেকসই সক্ষমতা অর্জন এবং বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে জাতীয় বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
গত বুধবার (১০ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা খাতের বাজেট ৮৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা:
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিশাল বরাদ্দের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমাদের শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়। দেশের শিক্ষা খাতের যুগান্তকারী পরিবর্তনের জন্য চলতি অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের ৮৮ হাজার কোটি টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে এবার ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।”
তিনি বরাদ্দের ব্যবধান স্পষ্ট করে আরও বলেন, “বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতের ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কিছু উন্নয়ন ব্যয় একত্রে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা কোনো খাতকে মিশ্রিত না করে শুধুমাত্র পিওর শিক্ষা খাতের জন্যই ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিশ্চিত করেছি। দেশের প্রয়োজনে ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের এই হার আরও বাড়ানো হবে।”
মন্ত্রী অত্যন্ত আক্ষেপ ও আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, “আমাদের প্রিয় জন্মভূমি এত বিশাল প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের দেশ, এত সুন্দর এক দেশ। তাহলে আমরা কেন বৈশ্বিক মানদণ্ডে পিছিয়ে থাকবো? একটি মাত্র ক্ষেত্রেই আমরা মূলত পিছিয়ে আছি, সেটি হলো মানসম্মত শিক্ষা খাত। এই শিক্ষা খাতে বাস্তবমুখী উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বিশ্ব প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশ অবশ্যই সবার চেয়ে এগিয়ে যাবে।”
জনসংখ্যাকে আশীর্বাদে রূপান্তর ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব:
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের তরুণ সমাজ ও যুব শক্তিই বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। এই বিশাল জনসংখ্যাকে কোনোভাবেই অভিশাপ ভাবা যাবে না, বরং সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
একই সাথে মন্ত্রী বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার একটি আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক কেন্দ্র তথা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রবল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের উচ্চমানের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে তাদের আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছে।
দেশসেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ:
নিজের রাজনৈতিক জীবন ও সততার স্মৃতিচারণ করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সুদূর প্রবাসে সুন্দর জীবন ছেড়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে সেবা করার এক বুক স্বপ্ন নিয়েই আমি একসময় স্বদেশে ফিরে এসেছিলাম। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের স্বার্থে আমি আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএসএ) স্থায়ী নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ ত্যাগ করি। পরবর্তীতে দেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দেশ ও দেশের মানুষকে সেবা করার জন্যই আমার এই ত্যাগ, ব্যক্তিগত লোভ কিংবা দুর্নীতির জন্য নয়। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির উদ্দেশ্যে আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বিসর্জন দিয়ে দেশে রাজনীতি করতে আসিনি।”
এমআইএসটি-এর উক্ত গ্র্যাজুয়েশন ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা কৃতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


