গৃহবধূর পরকীয়া দেখে ফেলায় শাশুড়ি হত্যা: প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েত গ্রেফতার
পিরোজপুরের জিয়ানগরে শাশুড়ি নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮। পরকীয়া দেখে ফেলায় পুত্রবধূ ও প্রেমিক মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গৃহবধূর পরকীয়া প্রেমের দৃশ্য দেখে ফেলায় শাশুড়ি নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮। রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ছোটকানুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত কামাল পঞ্চায়েত জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী:
গত ২৮ মে জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নমিতা রানী পালের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের সাথে কামাল পঞ্চায়েতের দীর্ঘদিনের অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। শাশুড়ি নমিতা রানী প্রায়ই তাদের এই সম্পর্কে বাধা দিতেন। ঘটনার দিন তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলায় অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২৯ মে নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাদী হয়ে জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পুত্রবধূ বন্যা রানী ও তার মামা তাপস দেবনাথকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া:
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহব্বত খান জানান, রোববার রাতে র্যাব-৮ সদস্যরা প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছেন। বর্তমানে তাকে হত্যার বিষয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
স্থানীয়রা এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


