ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা নেতানিয়াহু
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তিচুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছে ইসরাইল। চুক্তির শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা একাই লড়াই চালিয়ে যাবে।
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) পাকিস্তান এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন নেতৃত্ব ও এই চুক্তির শর্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে তেল আবিব। ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চুক্তির শর্ত মানতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে’ বন্ধ থাকবে। চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি প্রত্যাখ্যান ও ইসরাইলের অবস্থান:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ইসরাইল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো শর্ত মানতে বাধ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, লেবানন সংক্রান্ত কোনো শর্ত ইসরাইলের ওপর কার্যকর হবে না। এর রেশ ধরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন যে, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ঘোষিত ‘নিরাপত্তা জোনে’ ইসরাইলি সেনারা অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে এবং ওই এলাকাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ হিসেবে নির্মূল করা হবে।
মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা:
ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই চুক্তিকে ‘সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য খারাপ’ এবং ইসরাইলকে একা ফেলে দেওয়ার শামিল বলে গণ্য করা হচ্ছে।
কঠোর প্রতিক্রিয়া: ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলকে এখন ইরানের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করতে হবে।
নেতানিয়াহু শিবিরের নিন্দা: দেশটির প্রভাবশালী সাংবাদিক ইনন মাগাল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে ট্রাম্পকে ‘পরাজিত’ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘ঘৃণ্য’ ব্যক্তি বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
নিরাপত্তা উদ্বেগ: ইসরাইলি থিংক ট্যাংক ‘ইসরাইল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরাম’ (আইডিএসএফ) সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সাথে যেকোনো চুক্তি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সমালোচনার মুখে সরকার:
চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার গোলান বর্তমান সরকারের নীতিকে ‘ব্যর্থ’ বলে সমালোচনা করেছেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই চুক্তি ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান সরকার জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুরোপুরি অক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইসরাইলকে একটি কঠিন ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যা আগামীতে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


