আমেরিকা-ইরান চুক্তি: মধ্যস্থতা করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ৩ মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঐতিহাসিক চুক্তিতে পাকিস্তানের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা।

Jun 15, 2026 - 20:27
 0  3
আমেরিকা-ইরান চুক্তি: মধ্যস্থতা করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত পাকিস্তান
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত তিন মাস ধরে চলা বিধ্বংসী সংঘাতের অবসান, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং স্থবির বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে একটি যুগান্তকারী শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বিশ্বনেতারা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সফলতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

​উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি করেছিল।

​উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি চুক্তির বিষয়টি সোমবার প্রথম প্রহরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল সচল হতে দাও!’

​সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুদ্ধরত দেশ দুটির মধ্যে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলেও পাকিস্তানের একক প্রচেষ্টায় দুই দেশের মধ্যে প্রথম সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল।

​পাকিস্তানের প্রশংসায় বিশ্বনেতারা (একনজরে)

​কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে দুই পরাশক্তিকে ফিরিয়ে এনে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অগ্রণী ভূমিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা:

​জাতিসংঘ (আন্তোনিও গুতেরেস): ওয়াশিংটন ও তেহরানকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, "এই মারাত্মক বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অনন্য। এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"

​সৌদি আরব: দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ সচল রাখতে অন্যান্য প্রধান দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।

​কাতার: কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি বলেন, "আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থনের পাশাপাশি এই জটিল প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক প্রচেষ্টার আমরা উচ্চ প্রশংসা করি।"

​তুরস্ক (রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান): ঐতিহাসিক এই কূটনৈতিক ফলাফল আনার পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে এরদোগান বলেন, "ব্যতিক্রমী ও সফল মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য আমি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাই।"

​যুক্তরাজ্য (কিয়ার স্টারমার): ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তান, কাতার ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানাই, যারা এই যুগান্তকারী সাফল্যে অবদান রেখেছেন।"

​অস্ট্রেলিয়া: প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

​ফ্রান্স ও জার্মানি: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এই চুক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পথ প্রশস্ত করার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের ভূমিকা স্বীকার করেন।

​জাপান ও নিউজিল্যান্ড: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স আশা প্রকাশ করেন যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে আস্থা ফিরবে।