যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রভাব স্বর্ণের দামে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী সভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তির প্রভাবে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এই অনিশ্চয়তার মাঝে মূল্যবান ধাতুটির দামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪,৩৩১ ডলারের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। এর আগে সোমবার স্বর্ণের দাম গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪,৩৭০ ডলারে পৌঁছেছিল, তবে নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দামের এই ঊর্ধ্বগতি কিছুটা ধীর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রভাব:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে এবং এর ফলে দেশটি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অনুমতি পাবে।
তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি: ইরানের তেল সরবরাহ বাজারে ফিরতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তিন মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এটি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা প্রশমিত করতে সহায়তা করবে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ফেডারেল রিজার্ভ ও নতুন চেয়ারম্যানের চ্যালেঞ্জ:
বাজারে বর্তমান মূল ফোকাস হলো ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি। কেভিন ওয়ার্শ ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম ‘ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি’ (FOMC) বৈঠক।
বাজারের দৃষ্টি: ওয়ার্শের অতীত মুদ্রানীতির ইতিহাস, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং হোয়াইট হাউসের সুদহার কমানোর চাপের মধ্যে তিনি কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবেন, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।
সুদহারের পূর্বাভাস: সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে ৫৯ শতাংশে নেমেছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৭০ শতাংশ। সাধারণত সুদহার স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী থাকলে স্বর্ণের চাহিদা ও আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য ধাতুর বাজার:
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে:
সিলভার: প্রতি আউন্স ৭০.০৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে (০.২% হ্রাস)।
প্লাটিনাম: প্রতি আউন্স ১,৭৯২.০৫ ডলার (০.৭% হ্রাস)।
প্যালাডিয়াম: প্রতি আউন্স ১,৩৪১.২৩ ডলার (০.৮% হ্রাস)।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বগতির স্থায়িত্ব অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ফেডের নীতিনির্ধারকরা আগামীতে সুদের হার নিয়ে কী অবস্থান নেন তার ওপর।


