ইসরায়েল আমাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাপ দেয়নি: ট্রাম্প

ইসরায়েল তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে প্রভাবিত করেনি বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

Apr 21, 2026 - 10:55
 0  3
ইসরায়েল আমাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাপ দেয়নি: ট্রাম্প
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েল তাকে কোনো প্রকার প্রভাবিত বা চাপ প্রয়োগ করেনি। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই গুঞ্জনকে নাকচ করে দিলেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছেন।

পারমাণবিক ইস্যু ও আলোচনার অগ্রগতি

​৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি একটি ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখছেন। ট্রাম্প দাবি করেন:

​সমঝোতার ইঙ্গিত: ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এ বিষয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে একটি বড় সমঝোতা হতে পারে।

​মার্কিন ভূমিকা: প্রস্তাবিত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান

​ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতির কথা বললেও ইরানের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন:

​বাস্তব পরিস্থিতি: হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়ে ইরানের অবস্থান কোনো মৌখিক আশ্বাসে নয়, বরং স্থল পরিস্থিতি ও বাস্তব ঘটনার ওপর নির্ভর করবে।

​অবরোধের প্রভাব: তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

​আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে, ইসরায়েলি প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামাতে চেষ্টা করছে। ট্রাম্প সেই ধারণা সরাসরি অস্বীকার করে এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর প্রশাসন নিজস্ব কৌশলেই এগোচ্ছে। তবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে এখনও বৈশ্বিক মহলে সংশয় রয়েছে।