শিকাগোর রক্তরাঙা ইতিহাস: ১৬০ বছর পরও বাংলাদেশে শ্রমিকের হাহাকার

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের ১৬০ বছর পরও বাংলাদেশে শ্রমিকের হাহাকার কমেনি। বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি আর স্থির আয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন আজ চরম সংকটে।

May 1, 2026 - 19:10
 0  4
শিকাগোর রক্তরাঙা ইতিহাস: ১৬০ বছর পরও বাংলাদেশে শ্রমিকের হাহাকার
×

শিকাগোর হে মার্কেটে বুকের রক্ত ঢেলে শ্রমিকরা যে আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা আর ন্যায্য অধিকারের স্বপ্ন বুনেছিলেন, ১৬০ বছর পরও বাংলাদেশের রাজপথে আবুল হোসেন বা মাসুদ রানাদের দীর্ঘশ্বাসে সেই স্বপ্ন আজও সুদূরপরাহত। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের রঙিন র‍্যালি আর গালভরা স্লোগান যখন আকাশ-বাতাস মুখরিত করে, ঠিক তখনই বাড্ডার ফুটপাতে কাজের আশায় বসে থাকা দিনমজুরের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে— আজ কি কাজ জুটবে? আজ কি সন্তানদের মুখে দুবেলা অন্ন উঠবে?

আয় স্থির, ব্যয়ের চাপে টালমাটাল সংসার:

রাজধানীর ফুটপাতে কোদাল-কাস্তি হাতে অপেক্ষারত দিনমজুরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নিত্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা খরচ কয়েক গুণ বাড়লেও বাড়েনি শ্রমিকের আয়। এক দিন কাজ জুটলে পরের দিন হয়তো কর্মহীন থাকতে হয়। ফলে এক দিনের পারিশ্রমিক দিয়ে দুই দিন সংসার চালাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে তাদের।

শ্রমিকদের বয়ানে যাপিত কষ্ট:

​আবুল হোসেন (দিনমজুর): "মাসে ৬০০০ টাকা ঘর ভাড়া। চাল-সবজি কিনতেই সব শেষ। মাছ-মাংস কেনা তো বিলাসিতা। কেউ অসুস্থ হলে ধার করে চিকিৎসা করতে হয়।"

​মাসুদ রানা (নির্মাণশ্রমিক): "সারাদিন খাটুনি শেষে পাই ৮০০ টাকা। মাসে গড়ে ২০ দিন কাজ থাকে। ১৬ হাজার টাকা আয়ে খাব কী আর চলব কীভাবে?"

​বেলাল হোসেন (রিকশাচালক): "আগে জোগালি ছিলাম, এখন রিকশা চালাই। ঋণে ঋণে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চার পড়াশোনা বা চিকিৎসা— কোনোটারই হিসাব মিলাতে পারছি না।"

অনিশ্চয়তা ও ঋণের আবর্ত:

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ আইনি সুরক্ষার বাইরে। রাজমিস্ত্রি বা কাঠমিস্ত্রিদের দৈনিক মজুরি কিছুটা বেশি মনে হলেও সরদার বা দালালদের কমিশন দেওয়ার পর হাতে যা থাকে, তা দিয়ে বর্তমান বাজারদরের সাথে লড়াই করা অসম্ভব। ফলে সঞ্চয় তো দূরের কথা, অধিকাংশ শ্রমিকই এনজিও বা ব্যক্তিগত ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।

উন্নয়নের সুফল ও শ্রমিকের মর্যাদা:

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি ও সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান আরও নাজুক হবে। উন্নয়নের চাকায় দেশ এগোলেও শ্রমিকরা আজও ‘সমান অংশীদার’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।

​শিকাগোর ইতিহাস আমাদের শেখায় অধিকার আদায় করে নিতে হয়। তবে মে দিবস যেন শুধু ক্যালেন্ডারের একটি ছুটি না হয়; এটি হোক শ্রমিকের ঘরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের অঙ্গীকারের দিন। শ্রমিক যদি মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে না পারে, তবে উন্নয়নের সুফল পূর্ণতা পাবে না।

​#MayDay2026 #LabourRights #BangladeshWorkers #EconomicCrisis #LivingWage #HumanRights #PressPoint