বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও’র মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলো স্পেসএক্স। দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারমূল্য মিলিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক।

Jun 12, 2026 - 15:33
 0  2
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক
×

বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন প্রযুক্তি দুনিয়ার আলোচিত ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক। নিজের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’-এর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (এক ট্রিলিয়ন বা ১০০ লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি।

​জানা গেছে, স্পেসএক্স তাদের আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ‘ক্লাস-এ’ শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর আইপিও ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড়, এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল স্পেসএক্স।

​এই ঐতিহাসিক মূল্যায়নে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। মার্কিন শেয়ারবাজার নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হলে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হবে।

যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক:

আইপিও-পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে কোম্পানির সিংহভাগ ক্ষমতা। দুই কোম্পানিতে তার শেয়ারের বর্তমান মূল্য নিচে দেওয়া হলো:

​স্পেসএক্স (SpaceX): এই প্রতিষ্ঠানে মাস্কের কাছে থাকবে প্রায় ৮৪৯.৫ মিলিয়ন ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫.৫৭ বিলিয়ন ক্লাস-বি শেয়ার। ফলে কোম্পানির ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশই থাকবে তার হাতে। শুধু স্পেসএক্স-এই তার মালিকানার কাগুজে মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার।

​টেসলা (Tesla): বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তার প্রায় ৭১৭.১ মিলিয়ন শেয়ার রয়েছে। বর্তমান বাজারদরে যার মূল্য প্রায় ২৮৬.২ বিলিয়ন ডলার।

​স্পেসএক্স এবং টেসলা— এই দুই কোম্পানিতে ইলন মাস্কের মোট শেয়ারমূল্য যোগ করলে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাকে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদায় আসীন করেছে।

সম্পদের ধরন ও স্পেসএক্সের বর্তমান আর্থিক অবস্থা:

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইলন মাস্কের এই সম্পদের বেশিরভাগই শেয়ারভিত্তিক এবং বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে তার সম্পদের এই পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।

​স্পেসএক্সের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব বা আয় দ্রুত বাড়লেও কোম্পানিটি এখনো পুরোপুরি লাভজনক হয়ে ওঠেনি। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি হলেও একই সময়ে নিট মুনাফার খতিয়ানে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার লোকসানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

​২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স বর্তমানে শুধু মহাকাশযান উৎক্ষেপণ নয়, বরং স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো, মহাকাশভিত্তিক কম্পিউটিং এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের মতো দূরদর্শী ও মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। টেসলা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কারণে ইলন মাস্ক আগেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী ছিলেন, তবে স্পেসএক্সের এই আইপিও তার সম্পদের কাগুজে মূল্যকে এমন এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা এর আগে কোনো মানব সন্তান অর্জন করতে পারেনি।