পিরোজপুরে ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের জিয়ানগরে তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর কচা নদীতে ডুবে থাকা একটি মালবাহী জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

Jun 15, 2026 - 11:24
 0  6
পিরোজপুরে ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
×

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কচা নদীতে ডুবে থাকা একটি কার্গো জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামে এক নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

​গতকাল রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীতে ডুবে থাকা ‘এমভি গ্রীন এসট্রল-১’ নামের একটি জাহাজের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত আব্দুল্লাহ পশারী জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের আলাল পশারীর ছেলে। তিনি গত তিনদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

পরিবার ও নিখোঁজ ডায়েরি সূত্র:

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিন ধরে আব্দুল্লাহর কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর এলাকায় কচা নদীতে ডুবে থাকা জাহাজটির পাশে একটি পরিত্যক্ত ডিঙ্গি নৌকায় আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত জুতা এবং জাহাজের সিঁড়িতে তাঁর মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। এরপর আব্দুল্লাহর বড় ভাই রানা পশারী গত শনিবার (১৩ জুন) জিয়ানগর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

​আব্দুল্লাহর বড় ভাই রানা পশারী বলেন, "তিনদিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল, যার কারণে আমরা থানায় জিডিও করেছিলাম। কিন্তু সে কীভাবে বা কেন ওই ডুবন্ত জাহাজের কাছে গেল, তা আমরা কেউ বুঝতে পারছি না। এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।"

পুলিশের বক্তব্য:

জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারের জন্য আমরা ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলের সহায়তা চাই। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযানে ডুবে থাকা জাহাজের ভেতর থেকে নিখোঁজ আব্দুল্লাহর অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।"

​তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জিয়ানগর থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।