নাটোরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, প্রধান আসামি গ্রেফতার
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় গুচ্ছগ্রামের এক গৃহবধূকে ভুট্টাখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি আসলাম আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২০ দিন পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ধরা হয়।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় গুচ্ছগ্রামের এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি আসলাম আলীকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার জামনগর এলাকা থেকে শনিবার (১৩ জুন) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ রোববার (১৪ জুন) বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতার আসলাম আলী জামনগর ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামের মৃত কাইলি উদ্দিনের ছেলে। মামলার অপর অভিযুক্ত আসামি শ্রী ষষ্টি কুমার (৪২) এখনো পলাতক রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা:
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে সকালে উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চাইপাড়া আদর্শ গুচ্ছগ্রামের ওই গৃহবধূ বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে রান্নার খড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করতে যান। সে সময় সেখানে ওতপেতে থাকা আসলাম আলী ও ষষ্টি কুমার ওই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন ভুট্টাখেতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা গৃহবধূকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোনোমতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরদিন, ২৫ মে ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে আসলাম আলী ও শ্রী ষষ্টি কুমারের নাম উল্লেখ করে বাগাতিপয়ার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা:
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার ২০ দিন পর প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি আসলাম আলীকে আজ রোববার (১৪ জুন) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সিআইডি (CID) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, মামলার দ্বিতীয় আসামি শ্রী ষষ্টি কুমারকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


