ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র: আহমদ আবদুল কাইয়ূম
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ‘দুই দেশ এক হওয়া’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি তাঁকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। হাইকমিশনারের ‘দুই দেশ এক হওয়ার’ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী থানা শাখার থানা ও ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম এসব কথা বলেন।
মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, "বাংলাদেশে প্রবেশের পর নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ‘দুই দেশ এক হওয়ার’ এবং ‘ভারত ও বাংলাদেশের ১৪০ কোটি ও ২০ কোটি মানুষ মিলে একসাথে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হওয়ার’ যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ভারতের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশকে একীভূত করার মতো প্রচ্ছন্ন আভাসকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।"
তিনি আরও বলেন, "হাইকমিশনার ত্রিবেদী এই বক্তব্যের মাধ্যমে আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি পরবর্তীতে যে ব্যাখ্যাই দিন না কেন, তা কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বক্তব্যের প্রকৃত রহস্য খতিয়ে দেখতে হবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।"
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, "ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে যারা দেশ চালাতে চাইবে, এদেশের দেশপ্রেমিক ও ঈমানদার জনতা তাদের কাউকে ছাড় দেবে না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে।" বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশ থেকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার বা বিতাড়নের দাবি জানান।
যাত্রাবাড়ী থানা শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ডা. নূর মোহাম্মদ মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই দায়িত্বশীল সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ এবং নির্বাহী সদস্য হাফেজ মো. সালাউদ্দিন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব শাহীন আহমদসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।


