খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালীন মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি
খুলনার ওজোপাডিকো জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়া অবস্থায় দুই মুসল্লিকে গুলি করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। আহতদের মধ্যে ১ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মহানগরীতে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফজরের নামাজ চলাকালীন একটি মসজিদের ভেতরে ঢুকে দুই মুসল্লিকে সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। এতে দুজনই মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর ৫টা থেকে পৌনে ৬টার মধ্যে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএল কলেজ রোডস্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বিদ্যুৎ জামে মসজিদের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— খুলনা নগরীর খালিশপুর থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বারের ছেলে লোকমান হাকিম (৫৫) এবং একই এলাকার যমুনা রোডের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আলম শেখ (৫৬)।
নামাজ পড়া অবস্থায় মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন তারা:
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে অন্যান্য সাধারণ মুসল্লিদের সাথে জামায়াতে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন লোকমান হাকিম ও আলম শেখ। নামাজ চলাকালীন সময়ে আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সরাসরি ওই দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা দুজনই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই ঘাতকেরা অস্ত্র উঁচিয়ে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
ভেতরে গোলাগুলির শব্দ শুনে নামাজ শেষে অন্য মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে জীবনশঙ্কায় আজ সকালেই ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ আলম শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ব্যবসায়িক বিরোধ নাকি পূর্বশত্রুতা? তদন্তে পুলিশ:
পবিত্র মসজিদের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় এমন বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার ঘটনায় খুলনার স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চরম আতঙ্ক, ক্ষোভ ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ, পিবিআই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ক্রাইম সিন এলাকা থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছি। হামলার সঠিক কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।”
তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওজোপাডিকোর একজন তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। প্রাথমিক আলামত ও ঘটনার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে— ব্যবসায়িক কোনো বড় ধরনের দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।


