তরুণদের হাতে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব দিয়ে দেশ গড়তে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে নবগঠিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তরুণদের হাতে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ গড়তে চায় সরকার।
তরুণদের হাতে নেতৃত্ব ও উপযুক্ত দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে নবগঠিত যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। (নোট: মূল টেক্সটে বুধবার ও ১৩ জুন একসঙ্গে ছিল, তবে তারিখ অনুযায়ী আজ শনিবার)।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের যেকোনো সংকটে ও অগ্রযাত্রায় তরুণ ও যুবসমাজ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও তাদের মেধা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে মাদক ও অবৈধ পুশইন বন্ধ করা। দেশের জাতীয় স্বার্থে যেকোনো মূল্যে এই দুটি সংকট সমাধান করতে হবে।"
যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার তাগিদ দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, তরুণ প্রজন্ম যাতে বেকারত্বের অভিশাপে বিপথে পরিচালিত না হয় এবং তাদের নৈতিক অধঃপতন না ঘটে, সেজন্য দ্রুত নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সীমান্তে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এসে পৌঁছান। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা জিয়া দম্পতির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতৃদ্বয়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সংগঠনটির নতুন কমিটির নেতারাও যুবসমাজের সামনে থাকা চলমান চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার দিনে যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়—তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যুবদলের নবগঠিত কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


