বাগেরহাটে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা, মরদেহ পাঠানো হলো হাসপাতালে
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সুব্রত পোদ্দার ওরফে কাজী সোহাগের মরদেহ দাফন না দাহ করা হবে তা নিয়ে উত্তেজনা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরদেহ জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে মুসলিম রীতিতে দাফন করা হবে নাকি হিন্দু রীতিতে সৎকার (দাহ) করা হবে—এই নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মরদেহ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও ধর্মীয় রূপান্তর
নিহত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩), যিনি ২১ বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন কাজী সোহাগ। তিনি গোপালগঞ্জের মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের সংসারে ৯ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে জীবনযাপন করছিলেন বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে।
মৃত্যুর স্থান ও উত্তেজনার সূত্রপাত
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়েই মরদেহটি হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য শ্মশানের চিতায় তোলা হয়। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসাপড়ুয়া সন্তান আবদুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ইসলামি রীতিতে দাফনের দাবি করেন।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও ময়নাতদন্ত
শ্মশানে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। মৃত ব্যক্তির মা রিতা রানী পোদ্দার তাঁকে হিন্দু হিসেবে দাহ করার দাবি জানালেও, ছেলে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। অন্যদিকে, স্ত্রী মমতাজ মিম ২১ বছর আগের ধর্মান্তরের এফিডেভিট ও বিয়ের প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
মোল্লাহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের আইনি জটিলতা নিরসনে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।


