খুলনায় মসজিদের বারান্দায় দিনমজুরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার: মাথায় ইটের আঘাত ও গলাকাটা চিহ্ন
খুলনার হরিণটানায় বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দা থেকে ডালিম গাজি নামে এক দিনমজুরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাথায় ইটের আঘাত ও গলাকাটা চিহ্ন।
খুলনার হরিণটানা থানা এলাকায় একটি মসজিদের বারান্দা থেকে ডালিম গাজি (৩৫) নামে এক দিনমজুরের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মাথায় ভারী ইটের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন এবং রক্তাক্ত জখম রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আজ রোববার (২৪ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হরিণটানা থানাধীন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দা থেকে তাঁর মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার করা হয়।
পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ডালিম গাজি খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার আবুল হোসেন গাজি ও ভানু বিবি দম্পতির সন্তান। তিনি জীবিকার তাগিদে খুলনা শহর সংলগ্ন এলাকায় এসে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মুসল্লিরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ ভোরে পবিত্র ফজর নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে স্থানীয় মুসল্লিরা যখন জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদে আসেন, তখন তারা মসজিদের বারান্দায় এক যুবকের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বারান্দার মেঝেতে প্রচুর রক্ত লেগে থাকতে দেখে তারা তাৎক্ষণিকভাবে হরিণটানা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সশরীরে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়।
হত্যার ধরন ও সিআইডির আলামত সংগ্রহ:
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহতের মাথায় ভারী কোনো বস্তু বা ইটের আঘাতের গভীর চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং লাশের ঠিক পাশেই রক্তমাখা একটি ইট পড়ে থাকতে দেখেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (CID) একটি বিশেষ ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। সিআইডির বিশেষজ্ঞরা খুনের মোটিভ ও খুনিদের শনাক্ত করতে নিহতের আঙুলের ছাপসহ চারপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ করেছেন। সুরতহাল ও প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের বক্তব্য:
হরিণটানা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "স্থানীয় মুসল্লিরা সকালে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মসজিদের বারান্দায় এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত ও গলাকাটা সদৃশ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতের মাথায় ইটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে।"


